এশিয়ার দেশগুলোয় চলতি বছরের শুরুতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এর পেছনে মূল ভূমিকা পালন করেছে শীর্ষ আমদানিকারক দেশ চীনের ক্রয় হ্রাস। পাশাপাশি রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার কারণে পণ্যটির সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটেছে, যার প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক আমদানিতে। সম্প্রতি প্রকাশিত এলএসইজি অয়েল রিসার্চের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। খবর রয়টার্স।
এলএসইজির তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে এশিয়ার দেশগুলো দৈনিক গড়ে ২ কোটি ৬১ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছে। এটি গত বছরের একই সময়ের ২ কোটি ৬৯ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেলের তুলনায় ৭ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল কম।
চলতি বছরের প্রথম দুই মাসে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এশিয়ার দেশগুলোয় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি কমেছে প্রায় ৩ শতাংশ। এ সময় চীনের আমদানি পরিমাণ ছিল দৈনিক গড়ে ১ কোটি ৪ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল। এটি গত বছরের একই সময়ের ১ কোটি ১২ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেলের তুলনায় ৮ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল কম।
চীনের সরকারি তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে দেশটি দৈনিক গড়ে ১ কোটি ১০ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ২ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল বা ২ দশমিক ১ শতাংশ কম।
এর আগে ফেব্রুয়ারিতে মাসভিত্তিক প্রতিবেদনে ওপেক জানিয়েছিল, চীনে ২০২৫ সালে জ্বালানি তেলের চাহিদা আগের বছরের তুলনায় দৈনিক গড়ে ৩ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল বাড়তে পারে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বছরের প্রথম দুই মাসে নিম্নমুখী আমদানির তথ্যে এ পূর্বাভাস কার্যকর হওয়া নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেল আমদানিকারক দেশ ভারত ২০২৫ সালের শুরুতে আমদানিতে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রেখেছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দেশটি দৈনিক গড়ে ৪৯ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল আমদানি করেছে, যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ২ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল বেশি।
এদিকে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বেশ কয়েক বছরের সর্বনিম্নে নেমে গিয়েছিল। গতকাল তা কিছুটা ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নিয়ে অনিশ্চয়তা ও সরবরাহ বাড়ার পূর্বাভাসে এ বৃদ্ধি কিছুটা সীমিত হয়েছে।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গত বুধবারের তুলনায় ৫০ সেন্ট বা দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য পৌঁছেছে ৬৯ ডলার ৮০ সেন্টে। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়েছে ব্যারেলে ৪৮ সেন্ট বা দশমিক ৭২ শতাংশ। ব্যারেলপ্রতি মূল্য স্থির হয়েছে ৬৬ ডলার ৭৯ সেন্টে।